নতুন মাত্রা পত্রিকার অনলাইন ভার্সন (পরীক্ষামূলক সম্প্রচার)

 ঢাকা      মঙ্গলবার ২৩শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আজ ১৫ আগস্ট জাতীয় শোকদিবস

বার্তা সম্পাদক

প্রকাশিত: ৮:৩০ অপরাহ্ণ , ১৪ আগস্ট ২০১৯, বুধবার , পোষ্ট করা হয়েছে 5 years আগে

আজ ১৫ আগস্ট জাতীয় শোকদিবস। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়ক, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, মহান জাতির মহান নেতা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদৎ বার্ষিকী। বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক কলঙ্কিত দিন। বাংলাদেশের ইতিহাসে নৃশংসতম, আর সবচেয়ে নারকীয় উন্মত্ততায় সংঘটিত এক পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞের দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারী ও উচ্চাভিলাষী বেঈমান বিশ্বাসঘাতক একটি চক্রের লেলিয়ে দেওয়া বিপথগামী কিছু ঘাতকের হাতে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। শিশু, নারী এমনকি অন্তঃস্বত্ত্বা কাউকেই ছাড় দেয়নি বর্বর ঘাতকের দল। আর এ সুযোগে প্রতিক্রিয়াশীলদের দোসররা দশকের পর দশক ধরে রাষ্ট্রের ঘাড়ে চেপে বসে রুদ্ধ করে রাখে গণতন্ত্রের পথ। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের এই মর্মান্তিক ঘটনার মধ্য দিয়ে জাতি হারিয়েছে তার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বন্ধু ও ত্রাতাকে। সেই সঙ্গে তার গৌরবময় ইতিহাস নিমেষে ঢেকে গেছে অনপনেয় কালিমায়। জাতি সরে গেছে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের পথ থেকে স্বৈরশাসনের আবিল আবর্তে, প্রগতিশীলতা থেকে ক্রমাগত প্রতিক্রিয়াশীলতার দিকে আর বিজ্ঞানমনস্কতা থেকে ধর্মান্ধতার দিকে। তবে দেরিতে হলেও জাতির জনকের ঘাতকরা শাস্তি পেয়েছে। এবার তাই ফিরে আসতে শুরু করেছে মুক্তিযুদ্ধের লালিত স্বপ্ন অর্জনে নতুন করে পথচলা। জাতি আজ গভীর শোকার্ত হৃদয়ে আর শ্রদ্ধাবনত চিত্তে তার শ্রেষ্ঠ সন্তানকে স্মরণ করছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধকে নস্যাৎ করার পাঁয়তারা শুরু হয়। পাশাপাশি চালু হয় হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের অপরাজনীতি। রাতের অন্ধকারে বন্দুকের নল দিয়ে ক্ষমতা দখল এবং সংবিধানকে কাটাছেঁড়া করে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার এক অশুভ ধারা সূচিত হয়। কিন্তু সত্যেরই জয় হয়েছে। দেরিতে হলেও বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার সম্পন্ন হয়েছে, সর্বোচ্চ আদালতে পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ঘোষিত হয়েছে। তাই এবার জাতীয় শোকদিবস পালিত হচ্ছে শোককে শক্তিতে পরিণত করার প্রত্যয়ে।
১৫ আগস্টের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের শিকার বঙ্গবন্ধু শুধু একা হননি; ঘাতকদের হাত থেকে রেহাই পাননি রাজনীতির বাইরে থাকা নারী ও শিশুরাও। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে এ হত্যাকাণ্ডের শিকার হন, বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশুপুত্র শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল, রোজি জামাল, বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ আবু নাসের, ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাদ, বোনের ছেলে শেখ ফজলুল হক মনি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, শহীদ সেরনিয়াবাদ, শিশু বাবু, আরিফ, রেন্টু। বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করতে এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব কর্নেল জামিল জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছুটে যান। কিন্তু তাকেও ঘাতকচক্রের হাতে প্রাণ দিতে হয়। এ সময় বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।
নৃশংসতম এই হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ দীর্ঘদিন রহিত ছিল। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় সংসদে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে এই হত্যার বিচারের বাধা অপসারণ করা হয়। আওয়ামী লীগ আমলেই হত্যার জন্য অভিযুক্তদের বিচার শুরু হয় এবং আদালত ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। হাইকোর্ট ডেথ রেফারেন্স মামলায় প্রথমে বিভক্ত রায় দেন। পরে হাইকোর্টের তৃতীয় বিচারক ৩ জনকে খালাস দিয়ে ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। মূলত সুপ্রিমকোর্টে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারপতি না থাকায় এরপর বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর নতুন করে এই মামলা নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ২০০৯ সালের ৫ অক্টোবর শুনানির দিন ধার্য করেন। তত্কালীন প্রধান বিচারপতি মো. তাফাজ্জাল ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির বিশেষ বেঞ্চ টানা ২৯ কর্মদিবস শুনানি করার পর ২০১০ সালের ১৯ নভেম্বর চূডান্ত রায় ঘোষণা করেন। এরপর আসামিদের পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। ওই আদেশের সঙ্গে সঙ্গে এই মামলার ১৩ বছর ধরে চলা আইনি ও বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়। আইনি সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর পরই ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি দিবাগত রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির ফাঁসি কার্যকর করা হয়। ওইদিন রাতে বজলুল হুদা, আর্টিলারি মুহিউদ্দিন, সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও ল্যান্সার মহিউদ্দিন আহমেদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আরও সাত আসামি পলাতক আছেন। তারা হলেন খন্দকার আবদুর রশিদ, রিসালদার মোসলেমউদ্দিন, শরিফুল হক ডালিম, এএম রাশেদ চৌধুরী, নূর চৌধুরী, আবদুল আজিজ পাশা ও ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদ। আজিজ পাশা পলাতক অবস্থায় জিম্বাবুয়েতে ২০০২ সালে মারা যান। বর্তমান সরকার বিদেশে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর করার তত্পরতা অব্যাহত রেখেছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

July 2024
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
আরও পড়ুন
অনুবাদ করুন »