নতুন মাত্রা পত্রিকার অনলাইন ভার্সন (পরীক্ষামূলক সম্প্রচার)

 ঢাকা      মঙ্গলবার ২৩শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

এসআই’র বিরুদ্ধে স্কুল দপ্তরীকে নির্যাতনের অভিযোগ

বার্তা সম্পাদক

প্রকাশিত: ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ , ৫ আগস্ট ২০১৯, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 5 years আগে

সংবাদদাতা ॥ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের এক এসআই বিরুদ্ধে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরীকে ব্যাপক মারধোর করে কানের পর্দা ফাটিয়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে তাকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে আড়াই হাজার টাকাও হাতিয়ে নেন পুলিশের ওই কর্মকর্তা। সোমবার এব্যাপারে পুলিশ সুপারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নির্যাতনের শিকার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের খাকচাইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী মোঃ উবায়দুল্লাহ। এরআগে রবিবার রাতে পুলিশের সদর সার্কেল অফিসে গিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: আলমগীর হোসেন ও রেজাউল কবিরের কাছে অভিযোগ দেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং নির্যাতনের শিকার ওই দপ্তরী। পুলিশ সুপারের কাছে দেয়া অভিযোগ, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয়সুত্রে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট রাত ১০ টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের খাকচাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যায় এসআই জামিরুলের নেতৃত্বে ৬ জনের একটি পুলিশ দল। তারা বিদ্যালয়ের দপ্তরীর কক্ষের দরজায় টোকা দেয়। পরে বশির নামে কেউ আছে কিনা জানতে চায়। কেউ নাই বলার পরও তারা ওবায়দুল্লাহর পকেটে হাত দেয়। পকেট হাতিয়ে কিছু না পেয়ে আবার বলে বাচ্চু নামে কেউ আছে কি না। এরপর উবায়দুল্লাকে স্কুলের সব শ্রেনীর দরজা খুলতে বলে এসআই জামিরুল ও তার সঙ্গীয় পুলিশ দল। কক্ষগুলোতে গিয়ে কাউকে না পেয়ে পুনরায় আবার উবায়দুল্লাহকে নিয়ে তার থাকার কক্ষটিতে আসে। এসময় আবার তারা পকেট চেক করতে গিয়ে কয়েকটি ইয়াবা ট্যাবেলট কৌশলে ঢুকিয়ে দেয়। এরপরই জামিরুল তাকে বলে তুই ইয়াবা ব্যবসা করছ, আর কোথায় কোথায় ইয়াবা আছে বল। এরআগে বিভিন্ন শ্রেনী কক্ষে ঘুরে দেখার সময় একটি কক্ষে নামাজের জন্যে ম্যাডামদের রাখা হিজাব ও কাপড় দেখে তাকে বলে তুই নারীর ব্যবসাও করছ। শিশু শ্রেনী কক্ষে শিশুদের বসার জন্যে রাখা চাটাই দেখে বলে এখানে আড্ডা দেছ, নারীর ব্যবসা করছ। এসব বলেই তাকে দুই কানে এবং মাথায় এলোপাতারি বেধড়ক মারধর করতে থাকে। এরপর হাতকড়া পড়িয়ে বাচ্চুকে বের করার জন্য বলে। এসময় উবায়দুল্লাহর সাথে থাকা তার ভাতিজাকেও আটক করে পুলিশ। উবায়দুল্লাহর হাত থেকে মুঠোফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এসআই জামিরুল এবার টাকা দাবী করেন তার কাছে। টাকার জন্যে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ আবু তালেবকে ফোন দেয়ানো হয় উবায়দুল্লাহর মোবাইল থেকে। আবু তালেব সেখানে এসে উবায়দুল্লাহর পিতা ক্বারী নূরুল ইসলামকে আড়াই হাজার টাকা নিয়ে আসতে বলেন। এই টাকা নিয়ে জামিরুল সেখান থেকে চলে যান। এরআগে উবায়দুল্লাহর পিতার কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেন এবং এবিষয়ে কাউকে কিছু বললে উবায়দুল্লাকে মাদকদ্রব্য দিয়ে ফাঁসিয়ে দেবে বলে হুমকী দেয়। উবায়দুল্লাকে পরদিন প্রথমে জেলা সদর হাসপাতালে ও পরে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখানো হয়। উবায়দুল্লাহ জানান, তিনি এখন কানে শুনছেননা। তার চিকিৎসক এবিএম মুছা চৌধুরী জানান, ওবায়দুল্লাহর কানের আঘাত গুরুতর। প্রচন্ড আঘাতে তার কানের পর্দা ফেটে গেছে। বিষয়টি প্রথমে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। এরপর রাতে পুলিশের সদর সার্কেল অফিসে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যান অভিযোগ নিয়ে। তবে এসআই জামিরুল অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবী করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: আলমগীর হোসেন অভিযোগটি শুনেছেন জানিয়ে বলেন তাদেরকে বলেছি পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

April 2024
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930  
আরও পড়ুন
অনুবাদ করুন »