নতুন মাত্রা পত্রিকার অনলাইন ভার্সন (পরীক্ষামূলক সম্প্রচার)

 ঢাকা      সোমবার ১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নূর মোহাম্মদের একগুচ্ছ কবিতা

বার্তা সম্পাদক

প্রকাশিত: ৩:২৫ অপরাহ্ণ , ১ জুলাই ২০২৪, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 weeks আগে

নূর মোহাম্মদের একগুচ্ছ কবিতা
মায়ের ডাকে

মায়ের ডাকে চললাম রে ভাই
পেরিয়ে বিজন বন,
আকাশ জুড়ে ঝড়ের আভাষ
বায়ূ শনশন।
চোখের তারায় ঝিলিক মারে
মেঘের লাল বাতি,
ঘন আঁধার আসছে ধেয়ে
হয়ে এলো বুঝি রাতি।
কৈ-রে মনা কোথায় আছিস
গোয়ালে নে গরু,
আকাশ দেখে বুকটা আমার
কাঁপছে ধুরু ধুরু।
আসুক না ঝড় করি না ভয়
বুকে আছে বল,
নিভে যাক সব চন্দ্র তারা
সূর্য অস্তাচল।
তাল তলার ঐ পুকুর ঘাটে
বসলো কিসের মেলা,
জোঁনাকিরা খেলছে সবে
নীল আগুনের খেলা।
একটু দূরে পথ আঁটকিয়ে
হুক্কা হুয়ার দল,
কাঁঠাল চুরির ফন্দি এঁটেই
করছে কোলাহল।
একের পিঠে দশ চড়লো
কাঁঠাল চুরি শেষ,
সাদা হাওয়া উড়িয়ে নিলো
মেঘের কালো কেশ।
মেঘ সড়িয়ে উঠলো রে চাঁদ
বাঁশ বনের ঐ ফাঁকে,
মায়ের ছেলে মায়ের বুকে
ফিরছি মায়ের ডাকে।

বঙ্গবন্ধুর স্বরণে কবিতা
লাল সালাম।

আকাশ কেঁদেছিলো বাতাস কেঁদেছিলো
পাখিরা কেঁদেছিলো গাছের ডালে
স্বার্থান্বেষী কিছু জারযেরা স্বদেশের পরাজয়
আনতে চেয়েছিলো ১৯৭৫ সালে।

কালো দূস্যেরা আনাম নিতে ছেয়েছিলো
সবটুকু স্বাধীনতার সুখ
বুলেটের আঘাতে ঝাঝরা করেছিলো
তোমার সাহসী বুক।

লুটিয়ে পড়েছো তুমি অগো লুটিয়ে পড়েছো তুমি
রক্ত ঝরেছে কতো
সেদিন বাঙ্গালী ঢুকরে কেঁদেছিলো মুজিব
অবুজ শিশুর মতো।

পৃথিবীর বিবেক স্তব্দ হয়েছিলো
তোমার খবর শুনে
আরে কেমন করে ঘরের সন্তান মেরে দিলো তারে
সব জেনে শুনে।

বাঘের গর্জনে যে ছিলো বীর
ভয় পাইনি শত্রুদের ভীড়
কতো ষড়যন্ত্র পায়ে ঠেলে কোন অন্যায়ে
নত করেনি শির।

দেশকে ভালোবেসে পাশে নিয়ে জনগন
স্বাধীন পতাকা উড়াতে গিয়ে
সহেছে কতো প্রহসন।

নয়মাস করে যুদ্ধ হয়েছেন কারারুদ্ধ
তবু ছাড়েনি হাল খাঁটি বাঙ্গাল
তুমি বাঙ্গালীর অমর নেতৃত্ব।

তুমি বাংলার চিত্তে রক্ত জয়ের মানচিত্রে
রবে চির অম্লান
আমার বিন¤্র লাল সালাম তোমায়
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান।

ভাষার জন্য

আমি আমার কথা বলছি। বলছি এ দেশের মানুষের কথা।
বলছি মাটির কথা।
আজীবন দাবিয়ে হাজার বছর ধরে লালিত একটি ¯েœহের কথা বলছি আমি।
আমি কবি দলমত নির্বিশেষে আমি এক মানুষ
ভাষার জন্য ভয়ানক গর্জে উঠেছিলাম সেদিন
৫২, ৬৯, ৭১ এ তেজাচ্ছিলাম সূর্য শক্তিতে,
আমি মহা প্রশান্তি দায়ক। আমি সেই দিন হবো শান্ত
যবে উৎপিড়িতদের ক্রন্দন রোল আকাশে বাতাসে আর ধ্বনিবেনা।
আমি জন মানুষ সাধারণ।
দেশের মানুষের সাথে আমার জীবনেরসম্পর্ক।
ভাষা চির অমর হোক।

 

 

 

 

 

 

বন্ধুর চরণে
আমাকে রেখে যাই।

কবিতায় পাতায় লেখা আমার দেশ।
সোনা ঝরা ধান পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, গৌরী বহমান।
হেটে এসেছি এই গ্রাম, চারদিক মায়ের কোল জুড়ে তুমি অস¯্র।
গ্রামান্তর বলে তোমার কথা রেখে যাই ইতিহাসের পাতা থেকে
কথক, চাষা জীবি অন্যান্য। তুমি থেকে যাও দিক-দিগন্ত, তরুলতা, মাঠ প্রান্তর।
আমাদের নদী, দু চোখ বেড়ে অশ্রু গড়ায় সিমান্ত সীমানাহীন।
তুমি রও অঙ্কুরে, উদগমে।

 

 

 

 

 

 

 

একাত্তরের ফেব্রুয়ারী
¬¬¬¬¬
একাত্তরের ফেব্রুয়ারীর একুশ তারিখে
ভাষার জন্য রক্ত দিয়ে রফিক কবিতা লিখে।
জব্বার এসে বলে যায় ভাষার ইতিকথা
বায়ান্নর আন্দোলনে ভাষা দাও সালামের দাবিতে উঠলো প্রথা।
রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই এই শপথে নামলো সবে পথে
যুদ্ধ হোক রুদ্ধ হোক বাংলা চাই চিৎকার এক মতে।
মানলো না কিছুতেই ভাষা লুটেরা দিলো তাও তরফা
বাংলাদেশের শেখ মুজিব ভেঙ্গে দিলো সব রফা।
শুরু হলো দেশের ভেতর নতুন জাগরণ
ঊনসত্তরের অভ্যূথানে স্থানে স্থানে অবস্থানে স্বীকারে মহা মরন।
কৃষক মজুর শিক্ষক হুজুর ছুটলো সবে আজ
যুবক বৃদ্ধ মা ঝি রোদ্র আছে ছাত্র সমাজ।
হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিষ্ঠান মানুষ সাদা কালো
এক হয়েছিলাম আমরা সবাই জ¦ালাতে ভাষার আলো।
কত মিছিল রক্ত নদী হামলা মামলা হত্যা
ঘরের বউরা প্রার্থনা করল খুঁজে পেতে বাংলা সত্তা।
জীবন যখন দিয়েছি মোরা আরও জীবন দেবো
বোনের আশা মায়ের ভাষা বাংলা মুখে নেবো।
নয় মাস যুদ্ধ শেষে ভাষা পেলাম অবশেষে
এসে একাত্তরে,
মায়ের মুখে বাংলা ভাষা ভাইয়ের চেতনায় রাঙ্গা হাসা
বিজয় অধিকারে।
জয় এনেছেন দেশের মানুষ হাতে আলোক বর্তিতা
বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা এনেছেন স্বাধীনতা
পড়ছেন একুশ কবিতা।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

July 2024
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
আরও পড়ুন
অনুবাদ করুন »