নতুন মাত্রা পত্রিকার অনলাইন ভার্সন (পরীক্ষামূলক সম্প্রচার)

 ঢাকা      বৃহস্পতিবার ৩০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করোনার উপসর্গ নিয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু

বার্তা সম্পাদক

প্রকাশিত: ৪:৩৪ অপরাহ্ণ , ৮ এপ্রিল ২০২০, বুধবার , পোষ্ট করা হয়েছে 4 years আগে

সায়মন ওবায়েদ শাকিল :  ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় করোনার উপসর্গ নিয়ে আরো দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুরে জেলার বাঞ্ছারামপুর এবং নবীনগর উপজেলায় তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান। এ নিয়ে জেলায় করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা চারজনে উন্নীত হলো। তবে, তাদের মধ্যে ঢাকা মেডিক্যালে মারা যাওয়া বাঞ্ছারামপুরের কৃষক করোনায় আক্রান্ত ছিলেন না বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় করোনার উপসর্গ নিয়ে মজিবুর রহমান (৫৭) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ৮ এপ্রিল বুধবার দুপুরে শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে তাকে হাসপাতালে নেয়ার পথে সে মারা যায়। সে উপজেলার রুপসদী ইউনিয়নের রূপসদী মধ্যপাড়া গ্রামের ছন্দু মিয়ার পুত্র। বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি শ্বাসকষ্ট এবং হৃদরোগে ভুগছিলেন।বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আল মামুন জানান, ‘মজিবুর রহমান নানা রোগে ভুগছিলেন। তার নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।’

এদিকে বুধবার দুপুরে জেলার নবীনগর উপজেলা হাসপাতালে করোনার উপসর্গ নিয়ে রায়হান (২০) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক মোশরাত ফারখান্দা জেরিন বলেন, ‘কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার বলিঘর গ্রামের ওই যুবক বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট নিয়ে আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসে।এরপর তার এক্স-রে ও বেশকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা যায়। পরবর্তীতে তাকে ঢাকায় রেফার্ডের পর অ্যাম্বুলেন্সসহ সবকিছু প্রস্তুতের পর অ্যাম্বুলেন্সে ওঠানোর আগে বিকেল তিনটার দিকে তার মৃত্যু হয়। তার শরীরে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব ছিল কি না সেটি পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।

অপরদিকে মঙ্গলবার রাতে জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার এক কৃষক এবং নাসিরনগর উপজেলার প্রবাসফেরত যুবক শাহ আলম করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকায় আইসোলেশনে থাকাবস্থায় বাঞ্ছারামপুরের ৪৫ বছর বয়েসী কৃষকের মৃত্যু হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, গত সোমবার বিকেলে উপজেলার আইয়ূবপুর ইউনিয়নের চরছয়ানী গ্রামের ওই কৃষককে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পর সেখানকার আইসোলেশনে থাকাবস্থায় তিনি মারা যান। তবে তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন না। তথাপিও তার সংস্পর্শে আসা ১৬ জনকে গৃহ অন্তরণে (হোম কোয়ারেন্টাইন) থাকার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। বাঞ্ছারামপুর উপজেল স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আল মামুন বলেন, ‘ওই কৃষকের করোনা ভাইরাস পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন না।’

অন্যদিকে, মঙ্গলবার রাতে জেলার নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে চিকিৎসার্থে আসা প্রবাসফেরত শাহ আলমের (৩৫) মৃত্যু হয়। উপজেলার পূর্বভাগ ইউনিয়নের মকবুলপুর গ্রামের আবদুল গফুরের পুত্র শাহ আলম গত ১৮ মার্চ মালয়েশিয়া থেকে ফিরে গৃহ অন্তরণে ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার জেঠাগ্রামে শ্বশুর বাড়িতে তিনি অসুস্থ্যতাবোধ করায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে ওই প্রবাসীর নিজের ও শ্বশুরবাড়ি লকডাউন করে দেয় উপজেলা প্রশাসন। পরে সংক্রমণ রোধে ভোররাতে আইইডিসিআর’র নিয়মানুযায়ী তার মরদেহ করা হয় দাফন। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন জানায়, করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া যুবকের নমুনা পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে। রিপোর্ট পেলে সে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন কি না জানা যাবে।

জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ্ বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘ইতোমধ্যে একজনের করোনা ভাইরাস পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে, তিনি আক্রান্ত ছিলেন না। অপর ব্যক্তিদের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। নমুনার পরীক্ষার রিপোর্ট পেলে তাদের করোনায় আক্রান্তের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

আপনার মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

May 2024
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
আরও পড়ুন
অনুবাদ করুন »