নতুন মাত্রা পত্রিকার অনলাইন ভার্সন (পরীক্ষামূলক সম্প্রচার)

 ঢাকা      বৃহস্পতিবার ২রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ইং | ২০শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সড়ক দুর্ঘটনা

বার্তা সম্পাদক

প্রকাশিত: ১০:০৩ অপরাহ্ণ , ১৮ জুলাই ২০১৯, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 4 years আগে

সড়ক দুর্ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন সবাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বা জীবন বাজি রেখে যাতায়াত করছে। অকালে প্রাণ ঝরছে অনেক। প্রিয়জন হারানোর কান্নায় বাতাস ভারি হচ্ছে প্রতিদিন। রাষ্ট্রেরও প্রচুর ক্ষতি হচ্ছে। দেশের রাস্তাগুলো যেন মৃত্যফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ঈদের সময় দুর্ঘটনা হয় বেশি। রাজধানীতেও দুর্ঘটনা বেড়ে গেছে।সড়ক দুর্ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায় বেশকিছু কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রথম কারণ হচ্ছে যাত্রী ও চালকদের অসচেতনতা। এছাড়া ট্রাফিক আইন না মানা, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করা, অসহিষ্ণু প্রতিযোগিতা ও ওভারটেকিং, বাস মালিক-শ্রমিকের অধিক ব্যবসায়ী মনোভাব, সরু-ভাঙা রাস্তা, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, অদক্ষ-লাইসেন্সবিহীন ড্রাইভার, রাস্তায় ডিভাইডার না থাকা ইত্যাদি কারণেও দুর্ঘটনা ঘটছে। অনেক বাস মালিক ড্রাইভারকে পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ না দিয়ে ঘনঘন দূরপাল্লার গাড়ি চালিয়ে থাকেন। এটা অমানবিক। এখানে অধিক ব্যবসায়ী মনোভাব কাজ করে। অনেক ক্ষেত্রে বেতন একটু বেশি পাবেন বলে ড্রাইভার নিজেও বিশ্রাম না নিয়ে ঘনঘন ট্রিপ মারেন। এটাও সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

অপরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থার কারণে অনেক জায়গায় যানজট সৃষ্টি হয়। যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামায় সময় নষ্ট করে বাস শ্রমিকরা। বেঁধে দেয়া সময়ে পৌঁছাতে বা সময় বাঁচাতে পরে দ্রুতবেগে গাড়ি চালায়। এতে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। দেখা যায়, একই রাস্তা দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন গতির যানবাহন চলাচল করে। অনেকে যত্রতত্র ব্রেক করে হঠাৎ করেই। এতে পেছনের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। ফলে দুর্ঘটনা ঘটে। একটুখানি সচেতনতাই পারে আমাদের দুর্ঘটনা থেকে মুক্ত রাখতে। অনেকে আবার ফাঁকা রাস্তা পেয়ে বেপরোয়া গাড়ি চালাতে চেষ্টা করেন, যার ফল হয় ভয়াবহ। প্রাণহানি ঠেকাতে সাবধানে গাড়ি চালাতে হবে। অপ্রয়োজনীয় যানবাহন কমাতে হবে। পর্যাপ্তসংখ্যক নতুন নতুন প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণ করতে হবে। অত্যাধুনিক ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করতে হবে। গাড়িচালকদের বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালনা বন্ধ করতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাস্তা থেকে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন অপসারণ করতে হবে। চালকদের সুনির্দিষ্ট পরীক্ষার মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স দিতে হবে। সর্বোপরি জনগণকে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। যদি পথচারীরা ট্রাফিক আইন মেনে চলে, তাহলে নিশ্চিতভাবে দুর্ঘটনার সংখ্যা কমে আসবে।

রোড-সংকেত সম্পর্কে চালক ও যাত্রীর পরিষ্কার ধারণা দেয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। বিশেষ করে চালকের সহকারীদের। রোড ডিভাইডার করা যেতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একমুখী রাস্তা চালু করা যেতে পারে। পথচারীদের রাস্তা পারাপারে অবশ্যই ওভারব্রিজ বা পাতালপথ ব্যবহার করতে হবে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি ব্যবহার করা যাবে না। দূরপাল্লার গাড়ির চালকদের বাধ্যতামূলকভাবে পরপর ট্রিপ না দিয়ে পর্যাপ্ত বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে হবে। গাড়ি চালানোর সময় চালকদের অবশ্যই মোবাইল ফোন বন্ধ রাখতে হবে। এক্ষেত্রে যাত্রীরাও সচেতন হয়ে এ প্রবণতা রুখে দিতে পারে। দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় বা মোড়ে রাস্তা প্রশস্ত করতে হবে। শুধু আইন করে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব নয়। অনেক ক্ষেত্রে আইনের যথার্থ প্রয়োগ সম্ভব হয় না। সর্বাগ্রে সচেতনতা জরুরি আর ক্ষেত্রবিশেষে সংশ্লিষ্টদের বিবেক জাগ্রত হওয়া দরকার। সরকার-জনগণ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগ সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

ফেব্রুয়ারি ২০২৩
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জানুয়ারি    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮  
আরও পড়ুন
অনুবাদ করুন »