প্রয়াত কবি আবুল কাসেম তালুকদার স্মরণে………মাশরেকী শিপার
বার্তা সম্পাদক প্রকাশিত: ৪:০৪ অপরাহ্ণ , ২৩ মে ২০২৬, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 weeks আগে
গত ১৬ মে ২০২৬ তারিখে প্রয়াত কবি আবুল কাসেম তালুকদার স্মরণে সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছের এম এ বাশার আইডিয়াল ইনস্টিটিউটে এক স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়। আমারো সে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার সৌভাগ্য হয়েছিল।
বেসরকারি গ্রন্থাগার পরিষদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া কর্তৃক আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন কবি ও কথাসাহিত্যিক আমীর হোসেন। জেলা সদর ও জেলার বিভিন্ন উপজেলা এবং কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে বিপুল সংখ্যক কবি, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মী, সাংবাদিক, সংগঠক, শিক্ষক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে প্রিয় কবিকে স্মরণ করা হয়েছে।
কবি আবুল কাসেম তালুকদার সম্পর্কে কিছু কথা না বললেই নয়। তিনি একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, সমাজসেবক, পরোপকারী, সংগঠক ও মানবতাবাদী একজন মানুষ ছিলেন। তাঁর সম্পর্কে যেটুকু জানা যায় তিন ব্যক্তি জীবনে বৃহত্তর পরিসরে মানুষের কল্যাণের কথাই ভাবতেন। মানুষের প্রতি ছিল তার অগাধ ভালোবাসা। তাঁর মাঝে মানুষকে আপন করে নেয়ার এক সম্মোহনী ক্ষমতা ছিল।
কবি আবুল কাসেম তালুকদারের সাথে আমার পরিচয় খুব বেশি দিনের নয়, ফেসবুকে লেখালেখির সুবাদে পরিচয়। এই পরিচয়ের সূত্র ধরেই তিনি আমাকে তাঁর ওখানে যেতে আমন্ত্রণ জানান। পরিচয়ের শুরুতেই জানি না কেন তাঁকে কবি দাদু বলে সম্বোধন করি, এবং বলি নিশ্চয়ই বেড়াতে আসবো। দাদু আপনিও একদিন আসুন আমার এখানে। কিন্তু তাঁকে আমার বাসায় আনার সৌভাগ্য হয়নি। আমি দু-একবার গেছি কবির ওখানে। উনার আন্তরিকতা এবং উদারতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। জেলা সদরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবির সাথে দেখা হলে সালাম বিনিময়ের পর বুকে জড়িয়ে ধরে জিজ্ঞেস করতেন কেমন আছেন দাদু? এই বুকে জড়িয়ে ধরার মধ্যে কোন কৃত্রিমতা ছিলো না, ছিলো সুগভীর ভালোবাসার পরশ, যা আমি হৃদয় দিয়ে অনুভব করতাম। কবির সংক্ষিপ্ত জীবনী থেকে জানা যায় ২রা ফেব্রুয়ারী ১৯৫০ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার অন্তর্গত ২নং পাক শিমুল ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৮ সালে একই উপজেলার কালিকচ্ছ গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
তিনি ছিলেন গ্রাম্য চিকিৎসক। সেই সুবাদে এলাকার সকল শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে ছিল নিবিড় সম্পর্ক। তিনি তাঁর সেবার মাধ্যমে নিজ এলাকার মানুষের হৃদয়ে শ্রদ্ধার আসনটি অর্জন করতে পেরেছিলেন।
এই উদার মনা মানবতাবাদী মানুষটি স্রষ্টা ও সৃষ্টির প্রতি ভালবাসা থেকেই সাহিত্যের ভুবনে বিচরণ শুরু করেন। সৃষ্টির সৌন্দর্য তাঁকে আকৃষ্ট করেছিলো বলেই নিজেকে কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন। এই বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী কবি ও কথাসাহিত্যিক পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বেশ কিছু কবিতা ও গল্পের বই লিখে গেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কাব্য গ্রন্থ হলো বিহঙ্গের প্রেম, শ্রাবন্তির বাসর, প্রকৃতির কলরব, তুমি আসবে বলে, শারদ বালিকা, রক্ত ঝরার গল্প ও বুনো পথে একলা। তিনি সাহিত্য ভুবন গ্রন্থাগারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও ভৈরব সম্প্রীতি সাহিত্য পরিষদের সহসভাপতি ছিলেন।
জন্মিলে মরিতে হবে, এই চিরন্তন সত্যকে অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু মানুষ তার সৎ ও অসৎ দুই প্রকার কর্মের মাধ্যমে অমরত্ব লাভ করেন। যারা অসৎ কাজ করে অমর হয়েছে তাদেরকে মানুষ ঘৃণাভরে স্মরণ করেন। এখানে মীর জাফরের নাম উল্লেখ করা যায়। পক্ষান্তরে সৎ কর্মের মাধ্যমে যারা মানবতার কল্যাণে নিজের জীবন উৎসর্গ করেন, তাঁদের মানুষ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। কবি আবুল কাসেম তালুকদার তেমনি একজন আদর্শ মানব।
পরিশেষে মানবতাবাদী এই মানুষটির প্রতি শ্রদ্ধা জানাই, সেই সাথে তাঁর বিদেহী আত্মার পারলৌকিক শান্তি কামনা করছি। মহান রাব্বুল আলামীনের কাছে ফরিয়াদ করছি যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের ভাগিদার করেন। আমিন






















আপনার মন্তব্য লিখুন