কবি আল মাহমুদের প্রতি লিখা চিঠি —নুসরাত জাহান জেরিন
বার্তা সম্পাদক প্রকাশিত: ৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ , ১৯ মে ২০২৫, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 year আগে
কবি আল মাহমুদের প্রতি শেষ ঠিকানায় লিখা চিঠি
-নুসরাত জাহান জেরিন
তারিখঃ ১৫ মে ২০২৫
দক্ষিণ মৌড়াইল, সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
হে শ্রদ্ধেয় কবি আল মাহমুদ,
প্রগাঢ় শ্রদ্ধা শুরুতেই।
হে বাংলা সাহিত্যের আলোকবর্তিকা, আপনার আলোর ঝলকানী তুখোর দাপুটে কলমের সময়কাল সোনালী কাবিন, কালের কলস কিছুই দেখা হয়নি আমার, শুধু ছোটবেলায় পড়েছিলাম আমার মায়ের হারানো নোলক আর ফেব্র্য়ারীর সেই বিখ্যাত কবিতা । এই কবিতা পড়ে পড়েই আপনার এবং আপনার কবিতার শব্দের সাথে গভীর আত্মীয়তা। বয়স যখন বাড়লো গ্রাম থেকে পড়ালেখার খাতিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে আমি পা রাখলাম। তখনও আপনি জীবিত, কিন্তু মুক্ত সময়ের অভাব,নির্বিঘœ বিচরণের যে আনন্দ, অসুস্থতা আর একাকীত্মতায় জীবন সায়াহ্নে আপনার দামী স্মৃতিগুলো আপনি রোমন্থন করলেও গ্রামীণ জনপদে শিশির ভেজা দূর্বা ঘাসে পা রাখার যে স্বাদ পেতেন তাতে যে প্রতিবন্ধকতার দীর্ঘশ্বাসের যাপিত সময়কে আমি আপন করতে চেয়েছি অসংখ্যবার, যতবার আপনাকে ভেবেছি, যতবার আপনার নাম কানে বেজেছে ততবারই।
আশ্চর্য ব্যাপারকি জানেন, এই যে শহরে আসলাম বাসিন্দাও হলাম আপনার জন্ম স্থান দক্ষিণ মৌড়াইল গ্রামেই। বিশ্বাস করুন কেউ যখন আমাকে জিজ্ঞাস করে বাসা কোথায় ? উত্তর দিতে গিয়ে স্বগৌরবে আপনাকেই মনে করি। যেখানে আপনি বেড়ে উঠেছেন যে গ্রাম আপনার চোখে দেখা স্মৃতি কথায় আমি চোখ মেলেছি, দেখতে চেয়েছি আপনারই মতোন।
হে কবি জানেন, এক জীবনে আমার আক্ষেপ থেকে যাবে, দেখা হয়নি আপনার সোনালী কাবিনের সময় কিংবা আপনাকে। তবে সৌভাগ্য আমার পড়ার টেবিলের পাশে আমার যে জানালা সেই জানালা খুললেই দেখি দক্ষিণ মৌড়াইলের ঐতিহ্যের গোরস্থান, যেখানে আপনি শুয়ে আছেন। আপনাকে না দেখার সেই আক্ষেপ এখন সৌভাগ্যের করিডোর। যে করিডোরে জানালা মেললেই আপনার মুখ ভেসে উঠে এবং আপনাকে মনে করে মন ভরে দোয়া আসে। আমার কবি মনের আকাশে সূর্য হয়ে আপনি আলো ছড়ান, উদ্দীপ্ত করেন আমাকে। বিশ্বাস করুন সময়ের বেড়াজালে আপনাকে চর্চার বদলে যারা আবদ্ধ হয়েছিল রাজ কবিদের মতোন সেই সময়ও আমার কণ্ঠে আমার চর্চা ,প্রসার এবং প্রচারের আয়ত্বর সীমানায় আপনাকে শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছি। এখন আর সেই সময় নেই, এখন আপনার নাম-জপ করার জন্য লোক দেখানো সভা সেমিনার মঞ্চ হয়, সেই মঞ্চে অতিথিও হয় আপনার বিরোধীকারী সেই রাজকবিরা। অথচ একটা সময় আপনার একনিষ্ঠ ভক্ত শুভাকাঙ্খিদের লুকিয়ে লুকিয়ে যেতে হয়েছে আপনার কবর জিয়ারত করার জন্য। জানি আপনি বিশ্বাসীদের কবি আপনি তাদের দোয়া কবরেও টের পাবেন এটাও বিশ্বাস আমার। মহান আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের কথা আপনি স্পস্ট করে আত্মকথনে অনেক লিখেছেন তাই তো সেই শুভ শুক্রবারেই হয়েছে আপনার জীবনের শেষ ঈদ।
হে প্রিয় কবি আপনি জেনে খুশী হবেন আপনার সেই শ্রেষ্ঠ পংক্তি আপনার কবরে পাথরে খচিত করে লেখা রয়েছে
“কোন এক ভোর বেলা,রাত্রিশেষে শুভ শুক্রবারে
মৃত্যুর ফেরেস্তা এসে যদি দেয় যাওয়ার তাগিদ
অপ্রস্তুত এলোমেলো এ গৃহের আলো অন্ধকারে
ভালোমন্দ যা ঘটুক মেনে নিব তা আমার ঈদ। ”
যে লেখা পড়ে বিশ্বাসীদের মন আরো দৃঢ় হয়।
আপনার প্রতি আমার আত্মভাবনা নিয়ে চিঠি লেখার জ্ঞান চর্চা কিছুই নেই, জানালা খুলে আপনার শেষ ঠিকানায় তবু লিখেছি।
যেখানে আছেন আল্লাহর দয়া এবং রহমত নিয়েই থাকুন।
ইতি
আপনার অদেখা অজানা
এক শুভার্থী
নুসরাত জাহান জেরিন






















আপনার মন্তব্য লিখুন