ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যের সংস্কৃতি : ইফতার আয়োজনের সম্প্রীতি ………আল আমীন শাহীন
বার্তা সম্পাদক প্রকাশিত: ২:২৭ অপরাহ্ণ , ১ মার্চ ২০২৬, রবিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 months আগে
মানুষ মানুষে সহমর্মিতার শিক্ষা পাওয়া যায় পবিত্র রমজান মাসে। ক্ষুধার্তদের কষ্ট উপলব্ধি করার এবং সকলে মিলে মেলবন্ধন সৃষ্টি হয় এ মাসে। বিশেষ করে সারাদিন রোজা থাকার পর ইফতারের সময় ধনী গরীব মিলে একত্রে ইফতার করার মাঝে যেমন পূন্য তেমন নিজের মনে ও আনন্দ থাকে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংস্কৃতির ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে ইফতার আয়োজনে সম্প্রীতির দৃষ্টান্তের ধারা রয়েছে।
প্রতিটি পরিবারে রমজান মাসে পরিবারের সদস্যদের সাথে একসাথে ইফতার যেমন হয় তেমনি পাড়া প্রতিবেশী আত্মীয় স্বজনকে যুক্ত করে ইফতার আয়োজন হয় ব্যাপক আনুষ্ঠানিকতায়। বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন পেশাজীবী সংগঠন প্রতি রমজানেই ইফতার ও দোয়া মাহফিল করে থাকে। এ ছাড়া লক্ষ্য করা যায় ইফতারের পূর্ব মুহুর্তে বিভিন্ন সংগঠন ভিক্ষুক, ভবঘুরে, ছিন্নমূল মানুষ, দিন মজুর, রিক্সা চালকদের মাঝে পথে পথে ইফতার বিতরণ করে। সম্প্রতি দেখা গেছে জেলা সদরের তোফায়েল আজম মনুমেন্টে কাছে একদল শিক্ষার্থী চেয়ার টেবিল নিয়ে বসে থাকে বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান এখানে গরীব মানুষের জন্য ইফতার নিয়ে এসে এখানে জমা দেয় এবং শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছাশ্রমে তা বিতরণ করে। এ ছাড়া শহরের মৌলভীপাড়া, দক্ষিণ মৌড়াইল, উত্তর পৈরতলা সহ বিভিন্ন মসজিদে ব্যাপক ইফতারের আয়োজন হয়। রোজা রেখে সবাই মিলে ইফতার করার জন্য এসব স্থানে মসজিদের নিয়মিত নামাজ আদায়কারী সহ পথচারী শ্রমজীবি মানুষ জড়ো হয় ইফতারের জন্য। শুধু তাই নয় রমজান মাসে ঈদ বাজার জমজমাট থাকে এখানে বিভিন্ন দোকানে ক্রেতাদের সাথে নিয়ে ইফতার করার জন্য ব্যবস্থাপনা থাকে । অধিকাংশ বিপনী কেন্দ্র গুলোতে মার্কেট বাজার কমিটির পক্ষ থেকে ইফতারের আয়োজন হয়। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে ইফতার ও ইফতার সামগ্রী প্রদান করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠন প্রতিষ্ঠান গরীব দুস্তদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণের প্রথা রয়েছে এ জেলায়। এই সমাজে একা সুখে নয়, প্রতিবেশী আত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধন ধনী গরীব একত্রে মিলে মিশে থাকলে এর ভিন্ন রকম সুখ আছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংস্কৃতির ঐতিহ্যের ধারায় পবিত্র রমজানের এই শিক্ষায় একটি সুন্দর সমাজ এমনই দৃষ্টান্তে গড়ে উঠতে পারে। শুধু রমজান মাসেই নয়, আগামীর জীবন ধারায় এ ধারা থাকুক সম্প্রীতির বন্ধনে প্রতিটি ক্ষেত্রে এটাই প্রত্যাশা।






















আপনার মন্তব্য লিখুন