ঢাকা      শনিবার ৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হামলা ভাংচুর অত্যাচারে চরচারতলায় আতঙ্ক

বার্তা সম্পাদক

প্রকাশিত: ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ , ২৭ মে ২০২১, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 5 years আগে

প্রতিবেদক:ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের চরচারতলায় নৈরাজ্য ৩ শতাধিক বাড়িঘর ভাংচুর লুট ,গ্রামে নেই পুরুষ, আতংগ্রস্ত নারীরা গোষ্ঠিগত দাঙ্গায় উপজেলা চেয়ারম্যানের ভাই নিহত হওয়ার ঘটনায় গত চার মাস ধরে নৈরাজ্য চলছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার চরচারতলা গ্রামে। প্রতিপক্ষের তিন শতাধিক ঘর-বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সি ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে। কয়েক দফায় চালানো ওই ভাঙচুর-লুটপাটের পর থেকেই পুরুষরা গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছেন। আতঙ্কে নারীরাও বাড়িতে থাকতে পারছেন না।

আশুগঞ্জের চরচারতখন্দকার বাড়ির আলী রাজা খন্দকারের স্ত্রী হালিমা জানান, স্বামী নেই। ৪ সন্তানের ৩ জনই প্রতিবন্ধী।আরেক ছেলে প্রবাসী।লুটপাটে সবার ঘরই এখন ফাঁকা। শুধু কান্না যেন সম্বল অসহায় এই বৃদ্ধার। জানান, ঘরে কোনো খাটপালঙ্ক নেই।পানির মোটর, ফ্যান সবই লুট হয়ে গেছে। রান্নাবান্না করে খাওয়ার মতো কিছুই নেই। শূন্য একটি ঘর দেখিয়ে কাঁদছিলেন অনবরত।এদিকে ফরিদা বেগমের ৪০ বছরের সাজানো সংসারের কোনো কিছুই নেই। আলমারি ভেঙে সোনা-গহনা সবকিছুই নিয়ে গেছে সরকারবাড়ি আর মুন্সীবাড়ীর লোকজন। জানুয়ারি মাসে তার ঘরে হামলা হওয়ার কয়েকদিন আগে ৪ লাখ টাকা খরচ করে ঘরে টাইল্‌স বসিয়ে ছিলেন। আরো সাজসজ্জা করেছিলেন। সেই ঘরে এখন ধ্বংসের ছাপ। স্বামী সালাহউদ্দিন মিয়া ছাড়াও তার দুই মেয়ের জামাই প্রবাসী। ফলে দামি জিনিসপত্রে ঠাসা ছিল এই ঘর। খন্দকার বাড়ি ছাড়াও হামলা-লুটপাটে নিঃস্ব চরচারতলার এমন আরো অনেক পরিবার। লতিফ বাড়ির ধনাঢ্য সেলিম পারভেজের ডুপ্লেক্স বাসভবনের শুধু ইটগুলো ছাড়া কোনো কিছুই নেই। লুট করে নেয়া হয়েছে মসজিদের পাখাও। ঘরবাড়ির জিনিসপত্র লুটে নেয়ার পর এখন টিনের চালা পর্যন্ত খুলে নেয়া হচ্ছে।

পূর্বশত্রুতার জেরে গত ২২ জানুয়ারী রাতে গোষ্ঠিগত দাঙ্গায় চরচারতলা গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সির ভাই জামাল মুন্সি নিহত হন। গ্রামের লতিফবাড়ি ও খন্দকার বাড়ির লোকজনের হামলায় এ হত্যাকান্ড ঘটে বলে অভিযোগ । পরবর্তীতে নিহত জামাল মুন্সির বড়ভাই জাহাঙ্গীর মুন্সি বাদী হয়ে ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আর ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে আশুগঞ্জ মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই গ্রেপ্তার এড়াতে প্রতিপক্ষের পুরুষরা গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে আছেন। পরবর্তীতে দফায় দফায় গ্রামের লতিফ বাড়ি, খাঁ বাড়ি, খন্দকার বাড়ি ও নাগর বাড়ি গোষ্টির তিন শতাধিক ঘর-বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটতরাজ চালানো হয়। ঘরের দরজা-জানালা ও টিনের চালা পর্যন্ত খুলে নেওয়া হয়েছে। হানিফ মুন্সির প্রভাবে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় আশুগঞ্জ থানায় মামলা করতে পারেনি ভুক্তভোগীরা। পরবর্তীতে আদালতে মামলা করা হলেও তদন্ত কাজ থমকে আছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। গ্রাম থেকে উচ্ছেদ হওয়া হাজারো নারী পুরুষ শিশু এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন  তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সি বলেন, আসামীরা নিজেরাই তাদের মালামাল নিয়ে গেছে। হানিফ মুন্সী,উপজেলা চেয়ারম্যান.আশুগঞ্জ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ বলছে হত্যা এবং বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট দুটোই অপরাধ। এরসঙ্গে কোনো জনপ্রতিনিধির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকে ছাড়া হবেনা। তদন্ত করে দোষীরে বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মো:আনিসুর রহমান,পুলিশ সুপার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া। ঘটনার দোষীদের বিচার সহ গ্রামে শান্তিপূর্ণ নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিস্ট মহল যথাযথ ব্যবস্থা নেবে এটাই সকলের প্রত্যাশা।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

June 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930  
আরও পড়ুন
r57 shell c99 shell pendik escort istanbul escort
অনুবাদ করুন »