ঢাকা      শনিবার ৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনের কার্যক্রম ডি ক্লাশে ॥ ট্রেনের যাত্রাবিরতি ১৫ জুন থেকে ॥ সংস্কার কাজ শুরু।

বার্তা সম্পাদক

প্রকাশিত: ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ , ১৫ জুন ২০২১, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 5 years আগে

আল আমীন শাহীন ॥ ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর প্রত্যাশিত রেল স্টেশনে ট্রেনের যাত্রাবিরতি আড়াইমাস পর ১৫ জুন থেকে শুরু হচ্ছে। তবে স্টেশনের অপারেশনাল কার্যক্রম এখন বি ক্লাশ থেকে নেমে ডি ক্লাশে চলবে। সংস্কার কাজও শুরু হয়েছে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, প্রাথমিক অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য নির্মাণ সামগ্রী আনা হয়েছে স্টেশনে। যান্ত্রিক সংস্কার কাজের নিরূপনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। হেফাজতের তান্ডবের পর দুই মাসেরও অধিক স্টেশন বন্ধ থাকার পর স্টেশনটির কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ে। তবে বিপুল ক্ষয়ক্ষতির কারণে পূর্বের বি-ক্লাস স্টেশনটি ডি-ক্লাস স্টেশন হিসেবে অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু করবে রেলওয়ে। চলতি বছরের ২৬ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেল স্টেশনে হামলা ভাংচুর অগ্নি সংযোগ হলে ১০ টি খাতে প্রায় ২ কোটি ৬২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপন করেছে রেলওয়ের সংশ্লিস্টরা।
রেলওয়ের ট্রাফিক ট্রান্সপোর্টেশান শাখার উপ-পরিচালক (অপারেশন) রেজাউল হক স্বাক্ষরিত চিঠি থেকে জানা গেছে, গত ২৭ মার্চ থেকে সব সব ধরনের ট্রেনের নির্ধারিত যাত্রাবিরতি বন্ধ রয়েছে। স্টেশনের সিগনালিং ব্যবস্থা অচল হয়ে যাওয়ায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ স্টেশনটির সার্বিক কার্যক্রম বন্ধ রাখে।
রেলওয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, যাত্রীদের সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে সাময়িকভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনকে ‘ডি ক্লাস’ স্টেশনে রূপান্তর করে ট্রেন চালু করা হচ্ছে। ১৫ জুন থেকে সুরমা মেইল, ময়মনসিংহ এক্সপ্রেস, তিতাস কমিউটার ও কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেন যাত্রাবিরতি করবে। এরপর ১৬ জুন থেকে নিয়মিত যাত্রাবিরতি করবে ঢাকা-সিলেট রেলপথে চলাচলকারী আন্তঃনগর পারাবত এক্সপ্রেস।
দেশের পূর্বাঞ্চল রেল পথে আয়ের দিক থেকে অন্যতম প্রধান ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেল স্টেশন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধীতা করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত ২৬ মার্চ ব্যাপক তান্ডব চালায় হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা। ২৬ মার্চ বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে মোদি বিরোধী বিক্ষোভকারীরা। এই ঘটনার পর ২৭ মার্চ থেকে পূর্বাঞ্চল রুটে চলাচলকারী সকল আন্ত:নগর ট্রেনের ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে নির্ধারিত যাত্রাবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে দেওয়া হয়। নাশকতার হামলায় ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সিগন্যাল বোর্ড ও রেললাইনের মোটর আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। লেভেল ক্রসিং গেটের লকিং সিস্টেমও সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে। এতে করে স্টেশনে ট্রেন যাত্রাবিরতি বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিদিন অন্তত ২৮ জোড়া আন্ত:নগর, মেইল ও কমিউটার ট্রেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি করত। তবে যাত্রা বিরতী বাতিল করায় পার্শ¦বর্তী আখাউড়া, পাগাচং, তালশহর, আশুগঞ্জ, ও কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে এই রেলরুটে চলাচলকারীদের। ফলে বিপাকে পড়েছে স্টেশন নির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি ও এই রেল রুটে চলাচলকারীরা। আপাতত ট্রেনচালকদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অতিক্রমের ক্ষেত্রে ঘন ঘন হুইসেল বাজিয়ে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে লেভেল ক্রসিংগুলো অতিক্রম করার জন্য ঘণ্টায় সর্বোচ্চ গতিসীমা ১৬ কিলোমিটার বেঁধে দেয়া হয়। এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেল স্টেশনটি দ্রুত সংস্কার ও ট্রেনের যাত্রাবিরতির সোচ্চার দাবী উঠে। এরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক ভাবে স্টেশন সংস্কার কাজের জন্য বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী স্টেশনে আনা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার শোয়েব আহমেদ গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্থ স্থাপনার পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। প্রাথমিক ভাবে প্লার্টফর্মটি উচু করার জন্য নির্মাণ কাজের নির্দেশনা পাওয়া গেছে। যান্ত্রিক সংস্কারের জন্য রেলওয়ের টীম নিরূপন কাজ করছে। ডিক্লাশে অপারেশনাল কার্যক্রম চলবে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, ২৬ মার্চের নাশকতায় রেলের ১০টি খাতের সর্বমোট ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ২ কোটি ৬২ লাখ ৭১ হাজার ৪০৩ টাকা। এর মধ্যে বাণিজ্যিক বিভাগের ক্ষতি হয়েছে ৫৫ লাখ ৬৮ হাজার টাকা, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেমের (সিএনএস) ২৫ লাখ, রেলওয়ে ট্র্যাক (পি ওয়ে) ৭৪ লাখ ৮৪ হাজার, সেতু ২৫ লাখ, সংকেত বিভাগের ৪৩ লাখ ৯৫ হাজার, টেলিকমের ৩ লাখ ৯৫ হাজার, রেডিও ২ লাখ ৮০ হাজার, ক্যারেজ (কোচ ও ওয়াগন) ২০ লাখ, লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) ২ লাখ এবং অন্যান্য বিভাগের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
সূত্র আরও জানায়, রেলওয়েতে এ, বি, সি, ডি ও হল্ট স্টেশনের মাধ্যমে যাত্রী ওঠানামা ও অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। বাংলাদেশ রেলওয়েতে এখন এ-ক্লাস স্টেশন একটিও নেই। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার না থাকায় বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ-ক্লাস স্টেশন কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন। দেশের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে বি-ক্লাসের। বি-ক্লাস স্টেশনে ট্রেন পরিচালনার প্রায় সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কিন্তু নাশকতার কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে সংকেত ও সিগন্যালিং ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখানে আপাতত বি-ক্লাস স্টেশন হিসেবে চালু করা সম্ভব নয়। এ কারণে শুধু ডি-ক্লাস স্টপেজ দিয়েই যাত্রী ওঠানামা এবং বুকিং সহকারীর মাধ্যমে টিকিট বিক্রি কার্যক্রম চালু করা হবে। অর্থাৎ নাশকতার কারণে রেলওয়ে স্টেশনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় বি-ক্লাস স্টেশন থেকে ডি-ক্লাস স্টেশনে রূপান্তর হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ২৬ মার্চ স্টেশনে ব্যাপক ভাংচুর অগ্নি সংযোগ করা হয়। নাশকতায় রেলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।ফলে আপাতত পূর্বের ন্যায় বি-ক্লাস স্টেশনে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এ স্টেশনের ক্ষয়ক্ষতি স্থাপনা ও যন্ত্রপাতি বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। আপাতত ডি-ক্লাস স্টেশন হিসেবে চালু করে শুধু যাত্রী ওঠানামার কার্যক্রম চালু করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অপারেশনাল অবকাঠামো সম্পূর্ণ মেরামত না হলে স্টেশনটি বি-ক্লাস হিসেবে চালু করা সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করছেন।
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে দুই মাসের অধিক সময় কোনো ট্রেনের স্টপেজ না থাকায় স্থানীয়রা বিক্ষোভ ও আন্দোলন শুরু করে। কিছুদিন ধরে চলতে থাকা আন্দোলন থেকে স্টপেজ না দেয়া হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া দিয়ে চলাচলরত ট্রেনে ফের ভাংচুরের হুমকি দেয়াও হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে নতুন করে স্টপেজ দিতে প্রক্রিয়া শুরু করে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পরিবহন বিভাগ থেকে ৯ জুন একটি প্রস্তাব রেলভবনে পাঠানো হয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

June 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930  
আরও পড়ুন
r57 shell c99 shell pendik escort istanbul escort
অনুবাদ করুন »