আতিক হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই
বার্তা সম্পাদক প্রকাশিত: 5:19 pm , 12 August 2026, Wednesday , পোষ্ট করা হয়েছে 1 month আগে
সংবাদদাতা : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আতিকুর রহমান (১৯) হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পূর্ববিরোধের জেরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তাঁর লাশ বস্তাবন্দী করে পুকুরে ফেলে গাছের শিকড়ের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পিবিআই।
এ ঘটনায় মামলার আসামি সাগর (২০) সাদ্দাম (৩৬) ও বোরহান (২২) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে করা হযেছে। বুধবার (১২ আগস্ট) রাত দেড়টার দিকে আখাউড়া উপজেলার খরমপুর কেল্লা শাহ মাজার এলাকা থেকে সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভাদুঘর এলাকা থেকে সাদ্দাম ও বোরহানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পিবিআই সূত্রে জানা যায়, নিহত আতিকুর রহমান পেশায় সেলুনকর্মী ছিলেন। আসামিদের সঙ্গে তাঁর আগে থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ ছিল। গত ২৯ মার্চ রাত সাড়ে আটটার দিকে সাগর তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে রাত সাড়ে ১২টা ও রাত ১টা ৩ মিনিটে মুঠোফোনে মাকে জানান, তিনি ঈদগাহে আছেন এবং আধা ঘণ্টার মধ্যে বাড়ি ফিরবেন। এরপর তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন আর বাড়ি না ফেরায় স্বজনেরা তাঁকে খুঁজতে থাকেন। ১ এপ্রিল সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে নবীনগর উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নের মহেশপুরের একটি পুকুর থেকে আতিকুরের ভাসমান লাশ উদ্ধার হয়। পরে তাঁর মা তাছলিমা বেগম বাদী হয়ে নবীনগর থানায় হত্যা মামলা করেন। পিবিআই জানায়, ঘটনার রাতে আতিক ও সাগরসহ কয়েকজন বোরহানের ঘরে জড়ো হয়ে মাদক সেবন ও লুডু খেলে একপর্যায়ে আতিকের সঙ্গে বোরহানের তর্কাতর্কি এবং বোরহান উত্তেজিত হয়ে আতিকের অণ্ডকোষে সজোরে লাথি মারে পরে আতিক অচেতন হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। এরপর সাদ্দামের নির্দেশে আতিককে পাশের একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে ওড়না পেঁচিয়ে দুলাল, ইমন, বোরহান মিলে শ্বাসরোধ করে আতিককে হত্যা করে। হত্যার পর লাশ গুম করার পরিকল্পনা করে বস্তাবন্দি করে সাগর পিঠে করে পুকুরে নিয়ে গিয়ে পানিতে গাছের শিকড়ের সঙ্গে বেঁধে লুকিযে রাখে। হত্যাকাণ্ডের আলামত নষ্ট করতে আতিকের একজোড়া জুতো বাঁশঝাড়ের মধ্যে লুকিয়ে রাখা হয় বলেও পিবিআই জানিয়েছে। পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ইউনিটের পুলিশ সুপার শচীন চাকমা জানিয়েছেন , গ্রেপ্তার তিন আসামিকে বিধি অনুযায়ী আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার আরও পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আলামত উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।






















আপনার মন্তব্য লিখুন