মা বোনের ইচ্ছা পূরণে দেশ বিদেশে মন্দির পরিদর্শন ও বিশ্ব ভ্রমণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্জর
বার্তা সম্পাদক প্রকাশিত: 3:04 pm , 16 September 2026, Wednesday , পোষ্ট করা হয়েছে 1 week আগে
নুৃসরাত জাহান জেরিন : মায়ের আদেশ, বোনের শেষ ইচ্ছা পূরণ, নিজের আধ্যাত্মিক সাধনায় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মন্দির পরিদর্শন, ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি জানার নেশায় ঘুরে বেড়াচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গোকর্ণঘাটের নির্জর বোষনী বর্মণ। লেখাপড়ার পাশাপাশি ব্যবসাক্ষেত্রে সফলতা , সঙ্গীত সংস্কৃতি চর্চা আর ভ্রমণই তার জীবনের শখ ও সুখ।
ইতিমধ্যে সে মালদ্বীপ, নেপাল, শ্রীলংকা, ভারতে ভ্রমণ করেছেন। আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন।
নির্জরের মা দীপালী রাণীর ইচ্ছা, তার পুত্রও দেশ-বিদেশের ভ্রমণ করে বিভিন্ন মন্দির পরিদর্শন করবে। একমাত্র বোন দীপ্তী বর্মণ অকালে মৃত্যুর পূর্বক্ষণে বলেছিল মায়ের কথা পালন করতে। এ ছাড়া নিজেও ব্রতী নির্জর শ্রী স্বামী নারায়ণের ভক্ত মা দীপালী রাণী। পুত্রের সাথে স্বামী নারায়ণের বিভিন্ন মন্দির পরিদর্শন করেছেন তিনি। পুত্রের সাথে মন্দিরে মন্দিরে ঘুরতে পেরে আনন্দিত।
২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্জর তার মাকে নিয়ে ভারত ভ্রমণ করেন। সেখানে ভারতের দিল্লিতে স্বামী নারায়ণ অক্ষরধাম মন্দির, কলকাতার বিষ্ণুপুরে ডায়মন্ড রোডে শ্রী স্বামী নারায়ণ মন্দির, নিউ দিল্লির শ্রী গণেশ মন্দির, বেঙ্কটেশ্বর মন্দির পরিদর্শন করেন। এ ছাড়া দিল্লির আগ্রার তাজমহল, কলকাতার বিভিন্ন ইতিহাস-ঐতিহ্যের দর্শনীয় স্থান দেখেছেন।
২০২৬ সালের জুলাই মাসে সে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিষ্ণুপুরে অবস্থিত স্বামীনারায়ণ মন্দির পরিদর্শন করেছেন। ২০২৬-এর ২১ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে পূজা-আরাধনা করেছেন, বিশেষ করে মায়ের জন্য আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন।
২০২৬-এর জানুয়ারি মাসে নির্জর ভারতে বৃন্দাবন, কামাখ্যা, মথুরা, মায়াপুর, নবদ্বীপে শ্রী নারায়ণ মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থানে যান। ২০২৫ সালে মালদ্বীপ, একই সালে নেপালে পশুপতিনাথ মন্দির এবং শ্রীলংকা দেখে এসেছেন।
নির্জর জানান, শ্রী স্বামীনারায়ণ মন্দিরসমূহ অনেক বিখ্যাত। বিভিন্ন দেশ থেকে এখানে দর্শনার্থীরা আসে। এমনই মন্দির রয়েছে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও। এর মধ্যে আমেরিকা, লন্ডন, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াতেও এ মন্দির আছে। সেসব মন্দির পরিদর্শনের আশা রয়েছে নির্জরের।
২০০৩ সালের ১৫ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গোকর্ণঘাট গ্রামে জন্মগ্রহণ করে নির্জর। ২০২৩ সালে এসএসসি এবং ২০২৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে স্নাতকে ভর্তি হন। পড়ালেখার পাশাপাশি ২০১৮ সালে শুরু করেন ব্যবসা। মেসার্স নির্জর এন্টারপ্রাইজ নামক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী। ড্রাইফিস এবং রড-সিমেন্টের ব্যবসায় সে সফল।
নির্জর সংস্কৃতি সেবক হিসেবে এলাকায় পরিচিত। সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে সে নিয়মিত চর্চা করছে। শুধু টাকা-পয়সা উপার্জন জীবনের জন্য নয়, প্রয়োজন আধ্যাত্মিকতা এবং বিশ্বজগতকে জানা। সে লক্ষ্যে ব্রতী হয়ে তিনি নিজের জীবনকে সার্থক করতে চান।
বাবা দিলীপ চন্দ্র বর্মণ, মা দীপালী বর্মণ, বড় বোন দীপ্ত বর্মণ ও ভাই সৈকত বর্মণের পরিবার এলাকায় পরিচিত সম্ভ্রান্ত । বিশ্বখ্যাত উপন্যাস ‘তিতাস একটি নদীর নাম’-এর লেখক অদ্বৈত মল্ল বর্মণের উত্তরসূরি নির্জর বর্মণ। তার পরিবার দুঃখ পায় অল্প বয়সে একমাত্র বোনের মৃত্যুতে। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার অন্যতম প্রেরণা দীপ্তী বর্মণ ২০২১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর প্রাণ হারান। মৃত্যুর পূর্বে বোন হাত ধরে বলেছিল, “ভাই, তুই জীবনে অনেক বড় হবি, মাকে শ্রদ্ধাভরে যতœ করে দেখবি আর মায়ের আদেশ পালন করবি।” বোনের কথা সে ভুলতে পারে না।
নির্জরের জীবনে মা তার আশার আলো, সকল কাজের শক্তি। মায়ের আশীর্বাদ থাকলে সবই সম্ভব। মায়ের আদেশকে এবং স্বপ্ন পূরণকে প্রাধান্য দিয়ে নির্জর বলেন, ভক্তিতেই মুক্তি, এবং মায়ের আশীর্বাদেই ঈশ্বরের কৃপা সহজ ও ঈশ্বরের সন্তুষ্টি লাভ করা যায়, বিশ্বকে দেখা-জানা যায়। তিনি সকলের আশীর্বাদ চেয়েছেন।






















আপনার মন্তব্য লিখুন